

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাংগুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) ২৮৪ নং আসনে সুফিবাদে বিশ্বাসী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম “বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট” এর মোমবাতি প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন পিএইচডি গবেষক, লেখক, সুবক্তা ও সংগঠক
এডভোকেট এম ইকবাল হাছান।
জন্ম:
তিনি চট্টগ্রাম জেলার রাংগুনিয়া থানার অন্তর্গত সৈয়দবাড়ি (৮ নং রাংগুনিয়া পৌরসভা) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব মো: গোলাম রাসুল এবং চাচা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: ইস্কান্দর।
সংগঠন :
শৈশব হতেই সামাজিক কাজকর্ম এবং সামাজিক সংগঠনে সম্পৃক্ত ছিলেন এডভোকেট ইকবাল। প্রতিষ্ঠা করেন একাধিক সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতর্ক সংগঠন, আবৃত্তি চর্চাসহ নিজ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন রাংগুনিয়া স্টুডেন্টস’ ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রসেনার সৈয়দ বাড়ি গ্রামের ইউনিট শাখা হতে রাংগুনিয়া পৌরসভা-জেলা-কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্বে আসীন হয়ে মেধাভিত্তিক আদর্শ ছাত্রসমাজ গড়তে কাজ করেছেন। যুবসেনার কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করে এখন জাতীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আইন সচিব হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন উদীয়মান এ রাজনীতিবিদ।
একি মতাদর্শের পেশাজীবিদের সংগঠিত করতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এ কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও মানবাধিকার সংগঠনে সম্পৃক্ত হয়ে কমিউনিটি ইন্টেরেস্টে অবদান রাখেন। ঢাকাস্থ বৃহত্তর চট্টগ্রাম আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ’র প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৯-২১ সেশনে। সামাজিক ও সাংগঠনিক যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে এগিয়ে যান প্রশ্নাতীতভাবে। সাংগঠনিক ও সামাজিক কাজে ছাত্র জীবন থেকে চষে বেড়িয়েছেন রাংগুনিয়ার উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রত্যন্ত এলাকায়।
শিক্ষা জীবন :
এডভোকেট ইকবাল ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন । কৃতিত্বের সাথে এলএল. বি (অনার্স) এবং এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করে একি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পরবর্তীতে এম ফিল ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্বে চট্টগ্রামের রাংগুনিয়া রাহাতিয়া দরবারে ঐতিহ্যবাহী নুরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা হতে দাখিল পাশ করে এশিয়া বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়াতে কামিল সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন:
২০০৯ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল হতে এডভোকেট হিসেবে সনদ লাভ করে চট্টগ্রাম জজ কোর্ট এ আইন পেশা শুরু করেন। ২০১৩ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অনুমতি প্রাপ্ত হন।
আইন পেশা শুরু করে ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সাইয়েন্সেস (ইউআইটিইএস) এর আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সহকারী অধ্যাপক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সিন্ডিকেট মেম্বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে প্রায় একযুগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় অতিবাহিত করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে পুরোদমে আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষকে আইনি সেবা প্রদানই জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন।
লেখালেখি ও গবেষণা :
দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। মানবাধিকার, ভূমি অধিকার, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন। কথা বলেছেন তৃণমূল পর্যায়ে। শ্রম আইনে বঞ্চিত বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠীকে আইনি স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘ গবেষণা অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে এম ফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়। বর্তমানে গৃহ শ্রমিকদের অধিকার ও আইনি স্বীকৃতি বিষয়ে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। দেশের জটিল কঠিন ভূমি আইন বিষয়ে তার রচিত প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার বই বিভিন্ন সরকারী -বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের সুপাঠ্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনি সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি সভ্য রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
মদিনা সনদের কল্যাণকর রাষ্ট্রের রূপরেখা এবং মুক্তিযুদ্ধের সুমহান লক্ষ্য -উদ্দেশ্যকে ধারণ করে সাংঘর্ষিক রাজনীতির বিপরীতে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও মডেল রাংগুনিয়া গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।