

চট্টগ্রাম এর রাঙ্গুনিয়ায় বর্ণিল আয়োজনে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায় জল ছিটিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ঐতিহ্যবাহী মহা সাংগ্রাই মহা উৎসব বা জল উৎসব উদযাপন উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,মৈত্রী জলবর্ষণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(১৮এপ্রিল) দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সকালে সরফভাটা ইউনিয়নের চিড়িং বড়খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ও সাংগ্রাইয়ের পবিত্র জল ছিটিয়ে জল উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী ও সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। নিজেদের সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে মারমাদের তরুণ- তরুণীরা মেঠে উঠেন মৈত্রীর জল ছিটানো উৎসবে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অনন্ত মারমা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী, উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মংসা মারমা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সভাপতি বোমাংরাজ কন্যা ডনাইপ্রু নেলী, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু আদুমং মারমা, সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সরফী, মানবিক ও সামাজিক সংগঠন আলহাজ্ব মনির আহমদ বিএসসি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ হারুন, সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নুরুল আলম,ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম,রফিকুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন আজম,সরফভাটা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন,যুবলীগ এর নেতা মোহাম্মদ সেলিম প্রমূখ।

আরো উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ক্যসিপ্রু মারমা, অর্থ সচিব মংসানু মারমা, যুগ্ম অর্থ সচিব উপমং মারমা, যুগ্ম অর্থ সচিব কাহুলা মং মারমা, সরফভাটা ইউনিয়নের আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দসহ উদযাপন কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও মান্যগন্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাংগ্রাইয়ের জল উৎসবের উদ্বোধন পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেজে উঠে সাংগ্রাইয়েরে জনপ্রিয় গান ‘সাংগ্রাঁইং মা ঞি ঞি ঞা ঞা রি, কাজাই গাই পামে গানটি। যার বাংলা অর্থ দাড়ায় ‘এসো এসো সাংগ্রাঁইতে এক সঙ্গে মিলে মিশে জলকেলিতে আনন্দ করি’। এ গানের সুরে নাচে গানে মেঠে উঠেন মারমা তরুণ- তরুণীরা।

প্রসঙ্গত : মারমারা অনুসরণ করে বার্মিজ বর্ষপঞ্জি ম্রাইমা সাক্রয় অনুযায়ী ১৩৮৫ সনের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। বুধবার শুরু হবে নতুন বছর ১৩৮৬। তাই পুরাতন বছরের সমস্ত গ্লানী মুছে ফেলতে পবিত্র জলকেলিতে মেতে উঠেন মারমা সম্প্রদায়। এই উৎসব চলবে চলে শুক্রবার পর্যন্ত। মারমা ভাষায় এই উৎসবকে বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রাই রিলং পোয়ে’। জানা যায়, রীতি অনুযায়ী মারমার জনগোষ্ঠীর লোকজন বছর শেষে এক সপ্তাহ আগে থেকে বুদ্ধ মুর্তি ও বয়োজৈষ্ঠদের স্নান করান। মারমারা বিশ্বাস করেন বয়োজৈষ্ঠ ও বুদ্ধকে স্নান করানোর পরে এ পানির সংস্পর্শে এসে পৃথিবীর সব পানি পবিত্র হয়ে উঠে। এ পবিত্র পানি দিয়ে স্নান করানো হলে পুরনোর বছরে সকল দুঃখ কষ্ট গ্লানী মুছে যায়। নতুন বছরে বয়ে আনে সুখ শান্তি। মারমারা দীর্ঘকাল ধরে এই অনুষ্ঠান পালন করে আসছে।

জল উৎসবে প্রধান অতিথি বলেন, ‘মারমাদের এ উৎসব দেশের সংস্কৃতিকে উজ্জল করেছে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ সংস্কৃতির খুঁজে পাওয়া যায়। এ উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এ দিনটির জন্য পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষ অপেক্ষায় থাকে।’